বগুড়া জেলা ভ্রমণ

আমাদের বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, এর পাশাপাশি রয়েছে বাঙালীর সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। এ অঞ্চলে সংগঠিত হয়েছে অনেক যুদ্ধ , রচিত হয়েছে ইতিহাস।

20190428_175921
শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, বগুড়া     ©বাংলার কথা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সুদীর্ঘ প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ জেলা বগুড়া। আজ বগুড়া জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানাব এবং এসব স্থান কিভাবে ভ্রমণ করবেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন, কোথায় থাকবেন, কি খাবেন সব সব কিছু জানাব। চলুন পর্যটন নিয়ে আলোচনার আগে জেলা বগুড়া সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য জেনে নেই।

20190428_175834.jpg
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ছিলিমপুর, বগুড়া    ©ইন্টারনেট

বগুড়া জেলা:
দেশের প্রাচীনতম জেলা গুলোর বগুড়া একটি। ১৮২১ সালে বগুড়া জেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জয়পুরহাট জেলা বগুড়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল, ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাসের সময় জয়পুরহাট পৃথক জেলার মর্যাদা লাভ করে। বগুড়া উত্তরবঙ্গের একটি ঐতিহাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর। বগুড়া রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভূক্ত। বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এখানে ছোট ও মাঝারি ধরনের প্রচুর শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বগুড়া শহরের আয়তন ৭১.৫৬ বর্গকিলমিটার। বর্তমানে ভোটার বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় পৌরসভা এখন বগুড়া। এখানে “শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়াম” নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, যা উত্তরাঞ্চলের কয়েকটা জেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসার অন্যতম আশ্রয়স্থল। জেলার প্রাচীনতম ইতিহাস রয়েছে। বগুড়া জেলা পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল। যা বর্তমানে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত। শহরে থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত, যা একসময় প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল এবং সেসময় পুণ্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

20190428_175809.jpg
ঐতিহাসিক নওয়াববাড়ী, বগুড়া    ©ইনকিলাব

অবস্থান:
বগুড়া শহর করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত ।করতোয়া নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে বগুড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে । বগুড়ার উত্তরে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলা, পশ্চিমে নওগাঁ জেলা, দক্ষিনে সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পুর্বে যমুনা নদী ।
বগুড়া জেলা ১২ টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর প্রাচীন জেলা।
আয়তন:
বগুড়া জেলার আয়তন ২৮৯৫.০১ বর্গকিলোমিটার।
উপজেলা সমূহ:
১.ধুনট
২.শেরপুর
৩.নন্দীগ্রাম
৪.বগুড়া সদর
৫.শিবগঞ্জ
৬.কাহালু
৭.সোনাতলা
৮.সারিয়াকান্দী
৯.শাহজাহানপুর
১০.গাবতলী
১১.দুপচাঁচিয়া
১২.আদমদীঘি।
উল্লেখযোগ্য নদ-নদী:
করতোয়া
বাঙ্গালী
যমুনা
নাগর

20190428_175906.jpg
শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়াম   ©বাংলা ট্রিবিউন

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব:
১.প্রফুল্ল চাকী (১৮৮৮-১৯০৮), ব্রিটিশ বিরোধী আন্দলনের নেতা ।
২.মোহাম্মদ আলী (মৃত্যু ১৯৬৯), কূটনীতিক এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ।
৩.মেজর জিয়াউর রহমান (১৯৩৬-১৯৮১) বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান, সাবেক রাষ্ট্রপতি।
৪.খাদেমুল বাশার (১৯৩৫-১৯৭৬), বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং বিমান বাহিনী প্রধান ।
৫.আখতারুজ্জমান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭), সাহিত্যিক ও গল্পকার ।
৬.গাজিউল হক (১৯২৯-২০০৯), ভাষা সৈনিক।
৭.এম. আর. আখতার মুকুল (১৯২৯-২০০৪), লেখক এবং সাংবাদিক ।
৮.মুশফিকুর রহিম, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ।

20190428_174223.jpg
হযরত শাহ্ সুলতান বলখী (র.) এর মাজার শরীফ      ©লেখক

বিখ্যাত খাবার ও পণ্য:
১.দই
২.মহাস্থানের কটকটি
৩.লাল মরিচ
৪.লাল আলু

ফেসবুক.jpg
বিশ্বখ্যাত বগুড়ার দই    ©ফেসবুক

অনেক তথ্য তো দিলাম,এখন চলুন জেনে নেই কি দেখবেন বগুড়ায় আর আসবেনই বা কিভাবে।
দর্শণীয় স্থান:
করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে সুফি, লালন, মারাঠি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বগুড়া জেলাকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। পর্যটন সমৃদ্ধ বগুড়া জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানগুলো-
১.শাহ সুলতান (র.) এর মাজার শরিফ
২.ভাসু বিহার
৩.মহাস্থান জাদুঘর
৪.বেহুলা লখিন্দরের বাসর ঘর
৫.গোবিন্দ ভিটা
৬.নওয়াব প্যালেস
৭.খেরুয়া মসজিদ
৮.পশুরামের প্রাসাদ
৯.ভবানীপুর মন্দির ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
১০. শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়াম (উত্তরাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেণ্যু)।

20190428_174310.jpg
আমাদের মহাস্থানগড় ভ্রমণ!   ©শিহাব আহমেদ

আপনি ঢাকা থেকে বগুড়ায় সড়ক ও রেল পথ এই দুই উপায়ে আসতে পারবেন।
বিমানবন্দর থাকলেও বর্তমানে এটা বন্ধ আছে। ঢাকা থেকে বগুড়ার সড়ক যোগাযোগ খুবই ভালো, বর্তমানে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক চারলেনে উন্নতীকরণের কাজ চলছে এটা হয়ে গেলে অতি অল্প সময়ে, সহজে বগুড়া আসতে পারবেন।
বাসে ভ্রমণ করলে:
ঢাকার গাবতলী, কল্যানপুর ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ, শ্যামলী, এর আর ট্রাভেলস, মানিক, শাহ ফতেহ্ আলী, এনা, টি আর সহ অনেক পরিবহন কোম্পানির বাস বগুড়ার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ছেড়ে যায়। এসি, নন-এসি, ডিলাক্স ভাড়া পড়বে ৩০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত। একটু কম খরচে যেতে চাইলে টেকনিক্যাল মোড়ের আল মাহমুদ ফিলিং স্টেশন থেকে আর কে ট্রাভেলস এর বাসে চেপে বসতে পারেন, ভাড়া নিবে ২০০ টাকা। সময় লাগবে ৫-৬ ঘন্টা।
ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে:
ঢাকা থেকে বগুড়ায় ট্রেনেও আসতে পারবেন, তবে বাস যাত্রার চেয়ে সময় একটু বেশী লাগবে। কারণ ঢাকা থেকে বগুড়ার ট্রেন নাটোর-সান্তাহার স্টেশন হয়ে ঘুর পথে বগুড়ায় প্রবেশ করে ফলে সময় একটু বেশী লাগবে।

20190428_180130
বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত মহাস্থানগড় ঘুরে দেখতে হলে আপনাকে এভাবে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে হবে   ©শিহাব আহমেদ

কোথায় থাকবেন:
বগুড়া শহরেই অবস্থান করে পুরো বগুড়া ঘুরে দেখতে পারবেন। বগুড়ায় থাকা সংক্রান্ত কোন ঝামেলাতেই আপনাকে পড়তে হবে না। উত্তরাঞ্চলের চার তারকা ও পাঁচ তারকা মানের দুটি হোটেল শুধু বগুড়াতেই রয়েছে। রয়েছে পর্যটন মোটেল, জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। সার্কিট হাউজ ও ডাকবাংলোতে থাকতে হলে আপনাকে অগ্রীম অনুমতি সাথে আনতে হবে। তাছাড়া বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্দ্যোগে প্রতিষ্ঠিত উন্নতমানের বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে বগুড়ায়। ২০০-৮০০০ টাকায় এসব হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
খাবেন কি! :
বগুড়ায় ভালো মানের অনেক খাবার হোটেল রয়েছে। হোটেল আকবরিয়ার সুনাম দেশজুড়ে। বগুড়ার আসলেন আর দই খেলেন না তা হতে পারে না। বগুড়ার দইয়ের সুনাম বিশ্বময়। দই ও লাল মরিচ জেলার ব্র্যান্ড। তাছাড়া বগুড়ার মিস্টি, মহাস্থানের কটকটি পরখ করতে ভুলবেন না। এসব হোটেলে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার আরাম করে খেতে পারবেন।
চলুন এবার ঘুরে বেড়াই!
মহাস্থান ঘুরে দেখতে হলে;
মহাস্থানগড় মূলত বগুড়া শহর থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ভাসু বিহার, পরশুরামে প্রাসাদ, বেহুলা লখিন্দরের বাসর ঘর, গোবিন্দ ভিটা, মহাস্থানগড় জাদুঘর, শাহ্ সুলতান (র.) এর মাজার শরিফ দেখতে চাইলে প্রথমে আপনাকে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় আসতে হবে। অটোরিক্সা বা সিএনজি রিজার্ভ করে নিয়ে উপরের স্থান গুলো দেখতে পারবেন। শহরের অন্যান্য জায়গা থেকেও সিএনজি বা অটোরিক্সা রিজার্ভ করতে পারবেন। লোকসংখ্যা কম থাকলে বা বাজেটে ঘাটতি থাকলে রিজার্ভ না করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গাড়ি ধরেও ভ্রমণ করতে পারবেন। এখানে আপনি প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুন্ড্রবর্ধণ নগরীর অনেক ধ্বংসাবশেষ সহ নানান স্থাপনা দেখতে পাবেন। পুরো একটা দিন চলে যাবে উপরে উল্লেখ করা স্থান গুলো দেখতে।

20190428_180102.jpg
বাংলাদেশ মসলা গবেষনা কেন্দ্র, শিবগঞ্জ, বগুড়া    ©নাজমুল ইসলাম

নওয়াব প্যালেস মিউজিয়াম:
এটা সাতমাথা থেকে দুই মিনিটের হাটা পথ, সাতমাথা থেকে পূর্ব দিকে শহীদ খোকন পৌর পার্ক এবং সার্কিট হাউজের পাশেই নবাববাড়ী রোডে প্যালেস মিউজিয়ামটির অবস্থান। ৫০ টাকায় টিকিট কেটে আপনি ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবার এবং পাকিস্থানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। বিনোদনের জন্য বেশ কিছু আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে, রয়েছে আদিম গুহা!
খেরুয়া মসজিদ ও ভবানীপুর মন্দির:
খেরুয়া মসজিদ বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সম্পদ। মসজিদটি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত। বগুড়া শহর থেকে উপজেলাটির অবস্থান ২০ কিলোমিটার দক্ষিনে, আসতে পারবেন বাসে করে। সময় লাগবে ৪০ মিনিটের মতো, সাতমাথা থেকেই বাস পাবেন। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা ভাড়া করে নিয়ে ঘুরে দেখে আসতে পারবেন ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদ ।
ভবানীপুর মন্দিরটাও শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত, এখানে যেতে পারবেন সিএনজি বা অটোরিক্সা ভাড়া করে।

20190428_180035
বাংলাদেশ মসলা গবেষনা কেন্দ্রের ভিতরে রাস্তা   ©লেখক

হাতে সময় থাকলে অবশ্যই আরো যা দেখার চেষ্টা করবেন!
১.বাংলাদেশের অন্যতম বড় এবং শীর্ষস্থানীয় কলেজ সরকারী আযিযুল হক কলেজ ক্যাম্পাস। এর অবস্থান পুরান বগুড়ায়। সাতমাথা থেকে সিএনজিতে পশ্চিমে ৫ টাকার পথ।
২. প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের পৈত্রিক নিবাস। এটা জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাটি গ্রামে অবস্থিত। যেতে পারবেন সিএনজিতে, সিএনজি পাবেন শহরের ইয়াকুবিয়া মোড় থেকে।
৩.বাংলাদেশ মসলা গবেষনা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। মহাস্থানগড় জাদুঘর থেকে অল্প দুরত্বের পথ, কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
৪.প্রেম যমুনার ঘাট ও কালীতলা ঘাট। ঘাট দুটোর অবস্থান জেলার সারিয়াকান্দী উপজেলায়। আসতে পারবেন বাস বা সিএনজিতে। এখানে বসে বসে আপনি যমুনার ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

কারেন্ট নিউজ.কম
প্রেম যমুনার ঘাট, কালীতলা, সারিয়াকান্দী, বগুড়া     ©কারেন্ট নিউজ.কম

এবার ফেরার পালা:
ঢাকায় ফিরতে চাইলে চলে যান শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে। টিকিট কেটে উঠে পড়ুন বাসে! ট্রেনে যেতে চাইলে আপনাকে স্টেশনে যেতে হবে!
বগুড়ার সাথে প্রায় সকল জেলার বাস চলাচল ভালো, কিছু কিছু জেলায় সরাসরি বাস না চললেও লিংক সার্ভিস ঠিকই পাওয়া যায়। শহরের চার মাথা থেকে বিভিন্ন জেলার আন্ত:সার্ভিস বাস ধরতে পারবেন।
মনে রাখবেনঃ
প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন, স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন। ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।
*সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*একটা কথা বারবারই বলি, তা হলো যেখানেই ভ্রমনে যান না কেন ভাড়া, খাবার এ সব বিষয়ে দরদাম করে নিবেন। নইলে ঠকার সম্ভাবনা শতভাগ!
*নিজের সুবিধা মতো ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান এবং সেভাবেই চলুন।
*লেখকের পূর্বানুমতি ছাড়া পুরো বা কোন অংশ এডিট কিংবা কপি করা অনুচিত।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
*তথ্যগত সহায়তা ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।
©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
১০.০৩.২০১৯
ধুনট, বগুড়া

 

 

Advertisements

শরীয়তপুর জেলা ভ্রমণ

অন্যান্য জেলার মতোই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার শরীয়তপুর জেলা। আজ আলোচনা করবো শরীয়তপুর জেলার দর্শনীয় স্থান নিয়ে। জানাব কি দেখবেন শরীয়তপুরে, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি খাবেন ইত্যাদি। তবে তার আগে চলুন জেলা শরীয়তপুর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য জেনে নেয়া যাক।

20190426_212251.jpg
টিন ও কাঁঠের তৈরী শরীয়তপুরের দৃষ্টিনন্দন বাড়ী       ©লেখক

শরীয়তপুর জেলা:
শরীয়তপুর জেলা পূর্বে বৃহত্তর বিক্রমপুরের অংশ ছিল। ১৮৬৯ সালে প্রশাসনের সুবিধার্থে এটাকে বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ করা হয়। কিন্তু এ অঞ্চলের জনগণের আন্দোলনের মুখে ১৮৭৩ সালে এ অঞ্চলকে মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত করে ফরিদপুর জেলার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সবশেষ প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাসের সময় ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ শরীয়তপুরকে জেলার মর্যাদা প্রদান করা হয়। শরীয়তপুর বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। বর্তমানে ছয়টি উপজেলার সমন্বয়ে শরিয়তপুর জেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আয়তন:
শরীয়তপুর জেলার আয়তন ১১৮১.৫৩ বর্গকিলোমিটার।
অবস্থান:
এই জেলার উত্তরে মুন্সীগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে বরিশাল জেলা, পুর্বে চাঁদপুর জেলা এবং পশ্চিমে মাদারিপুর জেলা। শরীয়তপুর মূলত চর এলাকা।
উপজেলা সমূহ:
১.জাজিরা
২.শরীয়তপুর সদর
৩.গোসাইরহাট
৪.ডামুড্যা
৫.ভেদরগঞ্জ
৬.নড়িয়া
উল্লেখযোগ্য নদ-নদী:
শরীয়তপুর জেলা কীর্তিনাশা নদীর তীরে অবস্থিত।
অন্যান্য নদী গুলো;
১.পদ্মা
২.মেঘনা
৩.দামুদিয়া
৪.আরিয়াল খাঁ
আবার এসব নদীর অসংখ্য শাখা নদীও রয়েছে।

manasha-bari-500x305.jpg
মানসা বাড়ী, শরিয়তপুর    ©ইন্টারনেট

দর্শনীয় স্থান:
১.সুরেশ্বর দরবার শরীফ
২.মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম
৩.বুড়ির হাট মসজিদ ও
বুড়ির হাট মুন্সী বাড়ী
৪.রুদ্রকর মঠ
৫. মহিষারের দীঘি
৬.হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি
৭.রাম সাধুর আশ্রম
৮.মানসিংহের বাড়ী।

20190426_212353.jpg
কাঁঠালবাড়ী ফেরীঘাট, শিবচর, মাদারীপুর     ©লেখক

কিভাবে আসবেন?
ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে আসতে আপাতত সড়ক ও নৌপথই একমাত্র ভরসা। তবে পদ্মা সেতুর কাজ হয়ে গেলে এবং সেতুতে রেললাইন যুক্ত হলে ট্রেনেও আসতে পারবেন শরীয়তপুর। ঢাকা থেকে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরীঘাট হয়ে বাসে করে শরিয়তপুর আসতে পারবেন, সময় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা লাগবে। আবার ভেঙ্গে ভেঙ্গেও শরীয়তপুর আসতে পারবেন। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া (শিমুলিয়া ঘাট) পর্যন্ত বাসে এসে সেখান থেকে ফেরী/লঞ্চ/স্পীডবোটে করে প্রমত্তা পদ্মা নদী পার হয়ে মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ফেরীঘাট আসবেন। সেখান থেকে শরীয়তপুরগামী বাসে চড়তে পারবেন, আমরা এ রুটটাই ব্যবহার করেছিলাম। মিরপুর ১২ থেকে স্বাধীন, গাবতলী থেকে বসুমতী, আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রচেষ্টা সহ বেশ কিছু বাস মাওয়া ঘাটে আসে, ভাড়া নেবে ৯০-১২০ টাকা। মাওয়া ঘাট পর্যন্ত সময় লাগবে ১ ঘন্টার মতো।

20190426_212324.jpg
চলার জন্য ভাড়ায় মটর সাইকেল পাবেন    ©লেখক

থাকার ব্যবস্থা:
শরীয়তপুর শহরে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি ভালো মানের হোটেল পাবেন, কম বাজেটের হোটেলও পাবেন। খরচ পড়বে ২০০-১০০০ টাকার মতো। উপজেলা সদরগুলোতে থাকার ব্যবস্থা আছে কিনা জানা নেই। তাছাড়া রয়েছে জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, এসব জায়গায় থাকতে আপনার আগাম অনুমতি সাথে আনতে হবে।
খাবার ব্যবস্থা:
খাবার বিষয়ক কোন ঝামেলা নেই। জেলার সবখানেই সাধ্যের মধ্যে সকাল,দুপুর,রাতের জন্য ভালো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার পাবেন।

20190426_212550.jpg
পদ্মা সেতু প্রকল্প, জাজিরা প্রান্ত, শরীয়তপুর      ©লেখক

চলুন এবার ঘুরে বেড়াই!
সে অর্থে তেমন জনপ্রিয় কোন ভ্রমণ এলাকা শরীয়তপুরে নেই, তবে যথেষ্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত জেলা এটা। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, সেতু হয়ে গেলে এলাকার পর্যটন নতুন মাত্রা পাবে এমন আশা করাই যায়। ঘোরা শুরু করুন তবে…..
সুরেশ্বর দরবার শরীফ:
নড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত।
মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম:
নড়িয়ার কেদারপুর ইউনিয়নের কলুকাঠি গ্রামে এটি অবস্থিত। এখানে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় মাছের এ্যাকুরিয়াম। তাছাড়া এখানে চিড়িয়াখানা সহ শিশুদের বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। শরীয়তপুর জেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এটা সকলের কাছে পরিচিত।
বুড়ির হাট মসজিদ ও বুড়ির হাট মুন্সী বাড়ী:
দুটোরই অবস্থান ডামুড্যা উপজেলায়।
রুদ্রকর মঠ:
অবস্থান শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে।
মহিষারের দীঘি :
দক্ষিণ বিক্রমপুর।
হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি:
গোসাইরহাট উপজেলায় জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।
রাম সাধুর আশ্রম:
নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে এর অবস্থান।
মানসিংহের বাড়ী:
নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুরে অবস্থিত।

20190426_212818.png
সার্ভিস এরিয়া ও নির্মানাধীণ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, পদ্মা সেতু প্রকল্প, জাজিরা    ©লেখক

এবার ফেরার পালা:
ঢাকায় ফিরতে শরীয়তপুর জেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডে চলে আসুন, অথবা উপজেলা সদর থেকে বাস চলে কিনা তা স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে নিন। টিকেট করে বাসে উঠে পড়ুন, রাতের সর্বশেষ বাস কখন ছাড়ে আগেই জেনে নিন। চাইলে শরীয়তপুর থেকে গাড়ী বদল করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসতে পারেন। কাঁঠালবাড়ী-মাওয়া ঘাটে সারারাত ফেরি সার্ভিস চালু থাকে (যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে)। তবে লঞ্চ এবং স্পিডবোট সার্ভিস সন্ধ্যা ৭-৮ পর্যন্ত চালু থাকে সম্ভবত।
মনে রাখবেনঃ
প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন,স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন। ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।
*আমাদের ভ্রমনের সময়ের আলোকে লেখা। অতএব সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*নদী এলাকা পার হতে হয়, তাই হঠাৎ প্রতিকূল আবহাওয়া হলে সমস্যায় পড়তে পারেন এজন্য আবহাওয়া বার্তা জেনে নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান।
*একটা কথা বারবারই বলি, তা হলো যেখানেই ভ্রমনে যান না কেন ভাড়া, খাবার এ সব বিষয়ে দরদাম করে নিবেন। নইলে ঠকার সম্ভাবনা শতভাগ!
*নিজের সুবিধা মতো ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান এবং সেভাবেই চলুন।
*লেখকের পূর্বানুমতি ছাড়া পুরো বা কোন অংশ এডিট কিংবা কপি করা অনুচিত।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
*তথ্যগত সহায়তা ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।
©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
TM:March 2019
TD:06 (0 night 1 day)
১৪.০৩.২০১৯
ধুনট, বগুড়া

গোপালগঞ্জ জেলা ভ্রমণ

শস্য-শ্যামলা আমাদের মাতৃভূমির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এমনই এক জেলা গোপালগঞ্জ। প্রকৃতির মায়া আর ইতিহাসের মিশেলে গোপালগঞ্জ জেলা এক কথায় অসাধারন! গোপালগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আলোচনা করবো, জানাবো কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন তবে তার আগে জেলা গোপালগঞ্জ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশাসনিক তথ্য জেনে নেই।

20190426_212107.png
বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধে প্রবেশের প্রধান গেইট সংলগ্ন রাস্তা       ©লেখক

গোপালগঞ্জ জেলা:
১৮৭২ সালে মাদারীপুর মহকুমায় গোপালগঞ্জ নামক একটি থানা গঠিত হয়। ১৮৭৩ সালে মাদারীপুর মহকুমাকে বাকেরগঞ্জ জেলা থেকে পৃথক করে ফরিদপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৯০৯ সালে মাদারীপুর মহকুমাকে ভেঙ্গে গোপালগঞ্জ মহকুমা গঠন করা হয়। গোপালগঞ্জ এবং কোটালীপাড়া থানার সঙ্গে ফরিদপুর মহকুমার মুকসুদপুর থানাকে নবগঠিত গোপালগঞ্জ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯২১ সালে গোপালগঞ্জ শহরের মানে উন্নীত হয়। আদমশুমারি অনুযায়ী তখন গোপালগঞ্জ শহরের লোকসংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪ শত ৭৮ জন মাত্র। ১৯৭৪ সালে গোপালগঞ্জ সদর থানাকে ভেঙ্গে টুঙ্গিপাড়া নামক একটি থানা গঠন করা হয়। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ সরকার কর্তৃক প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাসের সময় গোপালগঞ্জ মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়। এই গোপালগঞ্জেই জন্মগ্রহন করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর সমাধী জেলার টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত।
বর্তমানে ৫টি উপজেলার সমন্বয়ে গোপালগঞ্জ জেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অবস্থান:
গোপালগঞ্জ জেলার উত্তরে ফরিদপুর জেলা, দক্ষিণে পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলা, পূর্বে মাদারীপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে নড়াইল জেলা অবস্থিত ।
আয়তন:
গোপালগঞ্জ জেলার আয়তন ১৪৮৯.৯২ বর্গ কিলোমিটার।
জেলার উপজেলা সমূহ:
১.টুঙ্গিপাড়া
২.কাশিয়ানী
৩.গোপালগঞ্জ সদর
৪.মুকসুদপুর
৫.কোটালিপাড়া

 

dc-gopalgonj-jobs20160606075900.jpg
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গোপালগঞ্জ      ©জাগো নিউজ

উল্লেখযোগ্য নদীসমূহ:
অনেক নদী সমৃদ্ধ জেলা গোপালগঞ্জ;
১.মধুমতি
২.বাঘিয়ার নদী
৩.ঘাঘর
৪.পুরাতন কুমার
৫.বিলরুট ক্যানেল (কৃত্তিমভাবে তৈরি করা হয় ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে)
৬.কালিগঙ্গা
৭.টঙ্গীখাল
৮.দিগনার
৯.বাগদা
১০.কুশিয়ারা
১১.মধুপুর
১২.শৈলদহ
১৩.ছন্দা
দর্শনীয় স্থান:
১.জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধী সৌধ কমপ্লেক্স।
২.ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি।
৩.জমিদার গিরীশ চন্দ্র সেনের বাড়ী।
৪.অন্যন্যা চন্দ্র ঘাট, গোপালগঞ্জ সদর।
৫.উলপুর জমিদার বাড়ী।
৬.বধ্যভূমি স্মৃতি সৌধ, গোপালগঞ্জ সদর।
৭.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

ujani.jpg
উজানী জমিদারবাড়ী, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ      ©মুকসুদপুর প্রতিদিন

কিভাবে আসবেন?
ঢাকা থেকে দুই পথে আপনি গোপালগঞ্জে আসতে পারবেন। রেলপথে আসতে পারবেন টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত। নতুন রেল লাইন নির্মান করা হয়েছে রাজবাড়ি থেকে গোপালগঞ্জ শহর হয়ে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত। তাছাড়া সড়ক পথে আসতে পারবেন দুইটা ওয়েতে। মিরপুর ১২ থেকে স্বাধীন, গাবতলী থেকে বসুমতী, আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রচেষ্টা সহ বেশ কিছু বাস মাওয়া ঘাট যায়, ভাড়া ৯০-১২০ টাকা। ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরীঘাটে আসবেন। সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস বাস পাবেন,অন্য বাস কোম্পানির বাসও পাবেন। কোন কোন বাসে উঠলে নামতে হবে গোপালগঞ্জে, আর কোন কোন বাস যায় টুঙ্গিপাড়া। ভাড়া ২০০-২৫০ এর মতো, সময় লাগবে ৩-৪ ঘন্টা। ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে আসলে ভাড়া ৩৫০ টাকা পড়বে। মটর সাইকেল ভাড়াও পাবেন কাঁঠালবাড়ী ঘাটে, ভাড়া নিবে ১২০০-১৫০০ টাকা। সময় লাগবে ২ঘন্টার মতো। সময় স্বল্পতার কারনে আমরা মটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়েছিলাম। আবার পাটুরিয়া ফেরীঘাট দিয়ে ফরিদপুর হয়ে গোপালগঞ্জে আসতে পারবেন। সাধারণত গোপালগঞ্জের মানুষ এই রুটটাই বেশী ব্যবহার করে, ভাড়া পড়বে ৩৫০-৪০০ টাকা। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে, পদ্মা সেতু হয়ে গেলে মাওয়া-জাজিরা রুটটাই বেশী ব্যবহৃত হবে। ঢাকার ছোট-বড় কয়েকটি স্ট্যান্ডে বাস পাবেন। চাইলে আগে পাটুরিয়া যেতে পারেন, তারপর লঞ্চে ফরিদপুর পৌছে গোপালগঞ্জের বাস ধরতে পারেন।

20190426_212925.png
সমাধী সৌধ কমপ্লেক্সের জাদুঘরের অংশ বিশেষ      ©লেখক

কোথায় থাকবেন?
গোপালগঞ্জ শহরে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি ভালো মানের হোটেল পাবেন, কম বাজেটের হোটেলও পাবেন। খরচ পড়বে ২০০-১৮০০ টাকার মতো। চাইলে টুঙ্গিপাড়াতেও থাকতে পারেন, থাকার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। তাছাড়া রয়েছে জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, এখানে থাকতে আপনার আগাম অনুমতি সাথে আনতে হবে।
খাবার ব্যবস্থা:
খাবার সংক্রান্ত কোন ঝামেলা নেই। জেলার সর্বত্র সাধ্যের মধ্যে ভালো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার পাবেন।
অভ্যন্তরীণ যানবাহন:
বাস, অটোরিক্সা, ম্যাক্সি, অটোভ্যান, রিক্সা, মটর সাইকেল ইত্যাদি বাহনে প্রয়োজন মেটাতে পারবেন।
চলুন এবার ঘুরিফিরি!

20190426_211846.jpg
বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধের পাশে দাড়িয়ে  ©নাজমুল ইসলাম

অনেক বকবক তো করলাম, চলুন এবার দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি….
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধী সৌধ কমপ্লেক্স:
গোপালগঞ্জ হতে বাসে চড়ে টুঙ্গীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে ভ্যান/অটোরিক্সা/ম্যাক্সিতে চড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধী সৌধ কমপ্লেক্সে আসতে পারবেন। এখানে আপনি বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতে পারবেন। দেখতে পারবেন বঙ্গবন্ধুর পৈত্রিক বাড়ী। বঙ্গবন্ধুর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত অনেক স্থান দেখতে পারবেন। এখানে একটি জাদুঘর ও লাইব্রেরী রয়েছে। সুবিশাল লাইব্রেরী থেকে জ্ঞান লাভের সুযোগ রয়েছে। জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর বেশ কিছু দুর্লভ ছবি রয়েছে, রয়েছে তথ্য সমৃদ্ধ অনেক কিছু।

20190426_211655.png
 সমাধী সৌধ কমপ্লেক্সের লাইব্রেরী অংশ      ©লেখক

ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি:
উপজেলা সদর হতে তিলছড়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে পূর্ব দিকে বাইপাস সড়ক দিয়ে খাগড়াবাড়ীয়া-আড়ুয়াকান্দি হয়ে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ী যেতে পারবেন।

20190426_211928.jpg
বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধের পাশে দাড়িয়ে        ©লেখক

জমিদার গিরীশ চন্দ্র সেনের বাড়ী:
ভাটিয়াপাড়া থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে ছোট কাচা রাস্তা ধরে পূর্ব দিকে গেলেই জমিদার গিরীশ চন্দ্র সেনের বাড়ী।
অন্যন্যা চন্দ্র ঘাট:
উপজেলা পরিষদ, গোপালগঞ্জ সদর।
উলপুর জমিদার বাড়ী:
গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস যোগে উলপুর যেতে হবে।
বধ্যভূমি স্মৃতি সৌধ:
উপজেলা পরিষদ, গোপালগঞ্জ সদর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস:
ছাত্রছাত্রী বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় এটা। গোপালগঞ্জ জেলা সদরেই এর অবস্থান। মনোরম এই ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে পারেন।

20190426_213219.png
বঙ্গবন্ধুর সমাধী চত্বরের অংশ বিশেষ     ©লেখক

এবার ফেরার পালা:
ঢাকায় ফিরতে গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডে চলে আসুন। এরপর টিকেট করে বাসে উঠে পড়ুন, রাতের সর্বশেষ বাস কখন ছাড়ে আগেই জেনে নিন। ট্রেনেও ফিরতে পারবেন। কাঁঠালবাড়ী-মাওয়া ঘাটে সারারাত ফেরি সার্ভিস চালু থাকে (যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে)। তবে লঞ্চ এবং স্পিডবোট সার্ভিস সন্ধ্যা ৭-৮ পর্যন্ত চলে সম্ভবত।
মনে রাখবেনঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধী সৌধের তথা কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করুন, এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন,স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন। ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।
*আমাদের ভ্রমনের সময়ের আলোকে লেখা। অতএব সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*নদী এলাকা পার হতে হয়, তাই হঠাৎ প্রতিকূল আবহাওয়া হলে সমস্যায় পড়তে পারেন এজন্য আবহাওয়া বার্তা জেনে নিয়ে ভ্রমন পরিকল্পনা সাজান।
*একটা কথা বারবারই বলি, তা হলো যেখানেই ভ্রমনে যান না কেন ভাড়া, খাবার এ সব বিষয়ে দরদাম করে নিবেন। নইলে ঠকার সম্ভাবনা শতভাগ!
*নিজের সুবিধা মতো ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান এবং সেভাবেই চলুন।
*লেখকের পূর্বানুমতি ছাড়া পুরো বা কোন অংশ এডিট কিংবা কপি করা অনুচিত।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
*তথ্যগত সহায়তা ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।
©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
TM:March 2019
TD:06 (0 night 1 day)
১২.০৩.২০১৯
ধুনট, বগুড়া

নাটোর জেলা ভ্রমণ

বাংলাদেশ পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ। আমাদের মাতৃভূমির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। উত্তরের জনপদ নাটোরের রয়েছে ইতিহাস সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকা। নাটোরের পর্যটন নিয়ে আলোচনার আগে চলুন জেলা নাটোর সম্পর্কিত কিছু প্রশাসনিক তথ্য জেনে নিই।

20181126_190024.jpg
রানী ভবাণীর জমিদার বাড়ির সুদৃশ্য এক স্থাপনা   ©ছবি:লেখক 

নাটোরঃ
রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন প্রশাসনিক অঞ্চল নাটোর। রাজশাহী জেলার অধীনে নাটোর মহকুমা গঠিত হয় ১৮৪৫ সালে। মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে। নাটোর পৌরসভা দেশের অন্যতম পুরাতন প্রতিষ্ঠান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নাটোর ৭নং সেক্টরের অধীন ছিল। এই জেলার উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা অবস্থিত। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কমবৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুর উপজেলায়। জেলাটি ৭টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত।

20181126_190046.jpg
রাণী ভবাণীর জমিদার বাড়ির পুকুর পাড়   ©ছবি:শিহাব আহমেদ

প্রধান নদীসমূহঃ
পদ্মা, বড়াল, মরা বড়াল, বারনাই, গুড়। *চলনবিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(নাটোরসহ পার্শ্ববর্তী বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে অবস্থিত চলন বিল হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল।)
দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
১.উত্তরা গণভবন।
২.রাণী ভবানীর রাজবাড়ী।
৩.দয়ারামপুর রাজবাড়ি।
৪.বনপাড়া লুর্দের রাণী মা মারিয়া ধর্মপল্লী।
৫.চলন বিল।
৬.চাপিলা শাহী মসজিদ, গুরুদাসপুর।

20181126_185844.jpg
উত্তরা গণভবনের মনোরম দৃশ্য   ©ছবি:লেখক

কিভাবে নাটোর যাবেন-
ঢাকা থেকে বাস যোগেঃ
বাসে করে ঢাকা থেকে নাটোর যেতে বেশ কয়েকটি কোম্পানীর বাস পাবেন। এদের মধ্যে সরকার ট্রাভেলস, গ্রীণ লাইন, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ, শ্যামলী এবং ন্যাশনাল পরিবহন উল্লেখ্যযোগ্য। ঢাকার কল্যানপুর, গাবতলী এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে এসব পরিবহণের বাসগুলো নিয়মিতভাবে চলাচল করে। নন-এসি, ডিলাক্স,সাধারণ ও এসির গাড়ির টিকেট মূল্য ৩৮০-৬০০ টাকার মধ্যে। সময় লাগবে ৬ঘন্টার মতো।
ট্রেনযোগে ঢাকা-নাটোরঃ
উত্তরাঞ্চলগামী প্রায় সকল ট্রেনই নাটোর স্টেশনে যাত্রাবিরতী করে। তাই ট্রেন যোগেও সহজে নাটোর যেতে পারবেন। টিকিটের দাম পড়বে ক্যাটাগরী ভেদে ২৭০-৯৫০ টাকা।
বাসস্ট্যান্ড বা রেলস্টেশন, যেখানেই নামুন না কেন উত্তরা গণভবন কিংবা রাণী ভবানীর জমিদার বাড়ি যেতে আপনার রিক্সা বা অটোরিক্সা ভাড়া যাবে ১০-৩০ টাকা।
বগুড়া থেকে নাটোর যাবেন যেভাবেঃ
বগুড়া থেকে নাটোর যেতে অনেক বাস পাবেন। বগুড়া শহরের চারমাথা ও শাকপালা বাসস্ট্যান্ডে একটু দাড়ালেই বাস পাবেন। ভাড়া নিবে ৪০-৫০ টাকা, সময় লাগবে ঘন্টা খানেকের মতো। যাত্রা পথে সিংড়ায় চলন বিল দেখতে পাবেন,এজন্য আপনাকে বর্ষাকালে যেতে হবে। চাইলে ট্রেনে করেও বগুড়া থেকে নাটোর যেতে পারেন। তবে বাস সার্ভিসই ভালো হবে আমার মতে।
কোথায় থাকবেনঃ
নাটোর ট্যুরে এসে থাকার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না! কারণ খুব ভোরে নাটোর পৌছালে সারাদিন প্রধান প্রধান স্পটগুলো ঘুরে চাইলে সন্ধ্যা বা রাতের গাড়িতেই ফিরতে পারবেন। কিন্তু কেউ যদি সময় নিয়ে সব দেখতে চান তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে রাত্রীযাপন করতে হবে। নাটোরে মোটামুটি মানের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও বোডিং রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ভি.আই.পি, হোটেল প্রিন্স, হোটেল রুখসানা, হোটেল রাজ, হোটেল মিল্লাত অন্যতম। ভাড়া পড়বে সিঙ্গেল এবং ডাবল কেবিন ২০০-৬০০ টাকার মধ্যে।
এছাড়াও রয়েছে সার্কিট হাউস, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। তবে আপনাকে এসব জায়গায় থাকতে আগাম অনুমতি নিতে হবে।

Untitled-1.jpg
উত্তরা গণভবন ্এবং জমিদার বাড়ির তথ্যবহুল চার্ট    ©ছবি:লেখক

কোথায় খাবেনঃ
নাটোরে খাবার নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নাই। খাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি ভালোমানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে সকাল, দুুপুর কিংবা রাতের খাবার আরামে খেতে পারবেন। খাবারের দাম স্বাভাবিক। নাটোরের বিখ্যাত ‘কাচাগোল্লা’ খেতে কিন্তু ভুলবেন না। দারুণ স্বাদের এই মিষ্টান্ন অবশ্যই পরখ করে দেখবেন, এই ‘কাচাগোল্লার’ সুনাম কিন্তু বিশ্বময়!
চলুন এবার নাটোরের প্রধান প্রধান পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখি!

20181126_185826.jpg
উত্তরা গণভবনের ভিতরের একটি স্থাপনা   ©ছবি:লেখক

দিঘাপতিয়ায় প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িটি বর্তমানে উত্তরা গণভবন নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে এর নাম ছিল গভর্নর হাউজ। নাটোর জেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তরা গণভবনটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় কার্যালয় এবং বাসভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ৪৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত উত্তরা গণভবন। রাজবাড়িটিতে মোট ১২ টি ভবন রয়েছে,আরো আছে স্বচ্ছ পানির লেক। ফুলে ফুলে সাজানো বাড়িটিতে রয়েছে প্রচুর আমগাছ। বিভিন্ন জাতের বিশাল আকৃতির আমগাছ গুলো দেখতে দারুন। যদি আমের মৌসুমে যান তাহলে বাড়তি আনন্দ পাবেন। টিকিট কেটে প্রবেশ দ্বারের বিশাল গেটটি পার হয়ে ভিতরে ঢুকলেই আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। এখানে বিকেল ৫টার পর অবস্থান করার অনুমতি নেই, তাই সেভাবেই সময় করে চলে আসুন। নাটোর শহরের যে কোন স্থান থেকে রিক্সা বা অটোরিক্সায় এখানে আসতে পারবেন। উত্তরা গণভবনে সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার।

20181126_190136.jpg
রাণী ভবানীর জমিদারবাড়ির প্রবেশ পথ   ©ছবি:লেখক

এবার চলুন যাই জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিখ্যাত রাণী ভবানীর রাজবাড়ী। এখানেও টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। শহরের যে কোন প্রান্ত থেকে রিক্সা বা অটোরিক্সা যোগে এখানে আসা যায়। নাটোর শহরে ঘোরাফেরার জন্য রিক্সা বা অটোরিক্সা রিজার্ভ না করাই ভালো, কারণ শহরের আশেপাশে সব জায়গাতেই এসব গাড়ী চলাচল করে। রাণী ভবানীর জমিদার বাড়িতে আপনি সে সময়ের সকল স্থাপনা দেখতে পাবেন। বড় বড় পুকুর রয়েছে এখানে, আছে শান বাধানো ঘাট। আসলে ঐতিহাসিক স্থানগুলো সম্পর্কে তেমন কিছু বলতে হয় না, আপনি গিয়ে নিজের মতো করে ঘুরে দেখুন সব। রাণী ভবানীর জমিদার বাড়িতে সম্ভবত বিকেল ৫টার পর অবস্থান করা যায় না।

20181126_190008.jpg
জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে এমন বড় বড় পুকুর   ©ছবি:লেখক

চলন বিলের যৌবন ভরা রুপ দেখতে আপনাকে ভরা-বর্ষায় যেতে হবে। নাটোর জেলার গুরুদাসপুর এবং সিংড়া উপজেলায় এর বিস্তৃতি। দেশের বৃহৎ এই বিল আপনাকে মুগ্ধ করবে শতভাগ। ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌকা রিজার্ভ নিতে পারবেন।

20181126_192410
চলন বিল   ©ছবি:জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

চাইলে গোসল করতে পারেন এবং সাতাঁরও কাটতে পারেন। তবে পানিতে নামার আগে ভাবুন আপনি সাতাঁর জানেন কি না! না জানলে পানিতে পা ভিজানোর চিন্তাটাও না করা ভালো।
আমি মূলত নাটোরের প্রধান স্পটগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম, কারণ অামরা এই স্থানগুলোই শুধু ঘুরে দেখেছি। আপনারা অন্যান্য স্পট গুলো দেখতে চাইলে নিজের মতো করে ভ্রমন পরিকল্পনা সাজিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন, ভালো লাগবে। নাটোরের স্পটগুলো দেখতে পরিবহন সংক্রান্ত কোন সংকটে পড়বেন না, সব রুটেই পর্যাপ্ত গাড়ী চলাচল করে।

20181126_185740.jpg
যানবাহন হিসেবে অটোরিক্সা পাবেন অনেক   ©ছবি:লেখক

এবার ফেরার পালাঃ
ঢাকায় ফিরতে চাইলে-
আপনি যেখানেই থাকুন না কেন প্রথমে নাটোর শহরে আসতে হবে। তারপর স্ট্যান্ডে গিয়ে টিকেট কাটতে হবে। যথেষ্ট বাস পাবেন ঢাকায় ফেরার জন্য। চাইলে ট্রেনেও ঢাকা ফিরতে পারেন।
বগুড়ায় ফিরতে চাইলে-
নাটোর শহরের র‌্যাবের কার্যালয়ের সামনে দাড়ালেই বগুড়া ফেরার গাড়ী পাবেন। সোজা কথা বগুড়া থেকে এসে যেখানে নেমেছেন সেখানেই বাস পাবেন।
মনে রাখবেনঃ
প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন,স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন। ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।
*আমাদের ভ্রমনের সময়ের আলোকে লেখা। অতএব সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*লেখকের পূর্বানুমতি ছাড়া পুরো বা কোন অংশ এডিট কিংবা কপি করা অনুচিত।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
*তথ্যগত সহায়তা ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।
©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
TM:June 2018
TD:20 (0 night 1 day)

 

জামালপুর ও শেরপুর জেলা ভ্রমণ

ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর পর্যটন সম্ভাবনার অঞ্চল। শেরপুরের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে নিশ্চিত। শেরপুরের পাশাপাশি জামালপুর জেলায়ও বেশ কয়েকটা ট্যুরিস্ট স্পট রয়েছে। একবার ভ্রমনে গেলে আপনি এই দুই জেলা একসাথে ভ্রমন করে আসতে পারবেন। জামালপুর এবং শেরপুর জেলার পর্যটন স্পট,যাতায়াত ব্যবস্থা,খাবার,হোটেল ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার আগে চলুন জেনে নেই জেলা জামালপুর ও শেরপুর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশাসনিক তথ্য।
জামালপুরঃ
জামালপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাংশের অঞ্চল, যা এখন ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর পশ্চিম তীরে জেলা সদরের অবস্থান। কৃষি পণ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র জামালপুর। জেলাটিতে রেল সংযোগ রয়েছে। তাছাড়া ঢাকার সাথে সড়ক পথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। দেশের সবথেকে বড় সার কারখানা এখানেই। জামালপুর জেলা ৭টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। জামালপুর দেশের অন্যতম পুরাতন জেলা। জেলার বুক চিরে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদী বয়ে গেছে। জামালপুরের উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য ও গারো পাহাড়, কুড়িগ্রাম জেলা, পূর্বে শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলা, দক্ষিণে টাঙ্গাইল জেলা এবং পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরবতী সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলা।
শেরপুরঃ
শেরপুর জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। শেরপুর জেলা পূর্বে জামালপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়। শেরপুর শহর দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৯৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা ও পূর্ব দিকে ময়মনসিংহ জেলা। শেরপুর জেলায় উপজেলা রয়েছে ৫টি। মহান মুক্তিযুদ্ধে জামালপুর ও শেরপুর জেলা ১১ নং সেক্টরের অধীন ছিল।

20181112_135054.jpg
গজনী অবকাশ কেন্দ্রের নির্জন পরিবেশ    ©ছবি:লেখক

জেলা দুটির দর্শণীয় স্থান সমূহ-
জামালপুরঃ
১.দেওয়ানগঞ্জের সুগার মিলস।
২.লাউচাপড়া পিকনিক স্পট-
জায়গাটি জামালপুর জেলার অধীনে হলেও যাওয়ার সহজপথ হলো শেরপুর হয়ে। ঢাকা থেকে সরাসরি শেরপুরে যায় ড্রীমল্যান্ড পরিবহনের বাসে করে যেতে পারবেন। ভাড়া ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে। শেরপুর থেকে বাসে বকশীগঞ্জের ভাড়া ২৫-৩০ টাকা।
৩.গান্ধি আশ্রমঃ
মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাসহাটিয়া গ্রামে গান্ধি আশ্রমের অবস্থান।
৪.দারকি গ্রামঃ
মাছ ধরার বিশেষ এক ধরনের ফাঁদের নাম “দারকি”। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হাতিজা গ্রামের নাম বদলে হয়েছে এই দারকি গ্রাম!
৫.যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানাঃ
দেশের সর্ববৃহৎ সার কারখানা জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত।
শেরপুরঃ
১. গজনী অবকাশ কেন্দ্র , ঝিনাইগাতি।
২. মধুটিলা ইকোপার্ক, নন্নী, নালিতাবাড়ি।
৩. অর্কিড গার্ডেন পর্যটন প্রকল্প, কলাবাগান, শেরপুর।
৪. জরিপ শাহের মাজার, বারদুয়ারি মসজিদ , গড় জরিপার দুর্গ, শ্রীবরদি, শেরপুর।
৫. হজরত শাহ কামালের মাজার ,কসবার মুঘল মসজিদ ,নয় আনী জমিদার বাড়ি, শেরপুর।
৬. সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগান, ঝিনাইগাতি।
৭. বারোমারি খ্রিস্টান মিশন, নালিতাবাড়ি।
৮. নাকুগাও স্থল বন্দর, নালিতাবাড়ি।
৯. বন্যহাতির অভয়ারন্য নয়াবাড়ির টিলা।
১০.নালিতাবাড়ির বিখ্যাত রাবারড্যাম।
১১.লস্কর বারী মসজিদ (১৮০৮ খ্রিস্টাব্দ)।
বিশেষ নোটঃ
আমরা বগুড়া থেকে ভ্রমণে গিয়েছিলাম। তাই ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেন তার একটা যুক্তিযুক্ত উপায় বিভিন্ন মাধ্যম দেখে ও পর্যালোচনা করে বের করেছি। তাই ভাড়া ও গাড়ীর সময়ের তারতম্য হতে পারে তবে তা সামান্যই হবে।

20181112_140031.jpg
গজনী অবকাশ কেন্দ্রের লেক     ©ছবি:লেখক

যাতায়াত ব্যবস্থা ও ভাড়া-
বাসযোগেঃ
এডিবির আর্থিক সহায়তায় ফিডার রোড নির্মিত হওয়ায় ঢাকার সাথে জামালপুর ও শেরপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে চার ঘন্টায় জামালপুর এবং সাড়ে চার ঘণ্টায় শেরপুর পৌঁছানো যায়। ঢাকা থেকে জামালপুরের দুরত্ব ১৮০ কিঃমি এর মতো আর শেরপুরের দুরত্ব ১৯৮ কিঃমি । এখানে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়াত খুব সহজ। রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সবচেয়ে উত্তম। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। ঢাকা থেকে এসে আপনি জামালপুর নামতে পারেন, জামালপুরের স্পটগুলো ঘুরে শেরপুর যেতে পারেন। কিংবা শেরপুর থেকেও জামালপুর ব্যাক করতে পারেন। আসলে এটা আপনার ইচ্ছা। আসলে সব বাসই জামালপুর শহর হয়ে শেরপুর যায়। বাস কোম্পানী গুলোর মধ্যে বধুয়া, শাহীমনি, সোনার বাংলা, এসএ পরিবহন ও স্পেশাল ড্রীমল্যান্ড সার্ভিস উল্লেখযোগ্য। ঢাকা থেকে এসি, নন-এসি, ডিলাক্স, সাধারণ এসবের সিট ভাড়া পড়বে ২০০-৪০০ টাকার মধ্যে।
মহাখালী,আব্দুল্লাহপুর সহ ঢাকার কয়েকটি স্ট্যান্ড থেকে বাস ছেঢ়ে যায় জামালপুর ও শেরপুরের উদ্দেশ্যে। গুলিস্তান বাইতুল মোকাররম মার্কেট এর সামনে বা ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম গেইট থেকে সরাসরি বিকাল ৩-৪টায় বেশ কিছু ভাল বাস ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ২৫০-৩০০ টাকা। বেশীরভাগ বাস শেরপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যায়, আবার কিছু বাস শহরের ভেতরে নিউমার্কেট পর্যন্ত যায়। এক্ষেত্রে বাস টার্মিনাল এ নামলে রিকশা নিয়ে শহরের ভিতরে যেতে হবে,ভাড়া ১৫-২০ টাকা। অটোরিক্সা দিয়েও যেতে পারেন, ভাড়া ৫-১০ টাকা জনপ্রতি।
ট্রেন যোগেঃ
ঢাকা থেকে ট্রেন যোগেও আসতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে আপনাকে জামালপুর এসে নামতে হবে। শেরপুর যাবার জন্য জামালপুর শহর থেকে সড়ক পথ ধরতে হবে।
থাকার ব্যবস্থা ও খরচ-
জামালপুর থাকতে চাইলেঃ
এখানে ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজ রয়েছে। আর আমার আপনার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ভালো,মাঝারী ও নিম্নমানের হোটেল। জামালপুরে থাকতে চাইলে জেলা শহরেই থাকা উত্তম। কারন উপজেলা গুলোতে তেমন ভালো থাকার ব্যবস্থা নাই। শহরের হোটেল গুলোতে ২ জন একরুমে থাকতে পারবেন এমন রুমের নন-এসি ভাড়া ৪০০-১২০০ টাকা, এসি ৯০০-২০০০ টাকার মতো।
শেরপুর থাকতে চাইলেঃ
যদি শেরপুরে রাত্রিযাপন করতে চান তবে শেরপুর জেলা সদরেই থাকতে হবে। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকার কোনো স্পটেই রাত্রীযাপনের কোনো ব্যবস্থা বা অনুমতি নেই। এছাড়া নিচে উল্লেখিত স্থানগুলোতে এমনকি ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ি,শ্রীবর্দী এসব সীমান্তবর্তী উপজেলা সদরে রাত্রিযাপন করার মতো কোনো ভালো আবাসিক হোটেল নেই। শেরপুর জেলা শহরে হাতে গোনা তিনটি-চারটা ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের রুম ভাড়া নন এসি ডাবল ৪০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এসি রুমের ভাড়া ৮০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। আর ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির রেস্ট হাউজ রয়েছে। ঝিনাইগাতী ডাকবাংলো অথবা বন বিভাগের ডাকবাংলোতেও থাকতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে আপনাকে অগ্রীম অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজের প্রতিরুম এক রাতের জন্য ভাড়া ৫০ টাকা, এলজিইডির প্রতিরুম ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং সার্কিট হাউজের প্রতিরুম ৪০০ টাকায় ভাড়া নেয়া যায়। তবে ওই রেস্ট হাউজে সরকারি কর্মকর্তারা নামমাত্র মূল্যে দিয়ে রাত্রীযাপন করতে পারেন।
খাওয়া সুবিধাঃ
জামালপুর ও শেরপুরে খাবারের সমস্যা নাই। দুটি জেলা শহরে কয়েকটি বিখ্যাত খাবার হোটেল আছে। হোটেল শাহজাহান,শাহী খানা খাজানা,বাগান বাড়ি রেস্টুরেন্ট,হোটেল আহার কিংবা হোটেল প্রিন্স শেরপুরের বিখ্যাত। আপনার সুবিধামতো খাবার খেতে পারবেন। খাবারের দাম স্বাভাবিক। শহরের বেশ কয়েকটি হোটেল অর্ডার দিলে পার্সেল সরবরাহ করে।
তবে সীমান্ত এলাকায় ভালো মানের খাবার হোটেল পাবেন না। তবে পেট চালিয়ে নেবার মতো খাবার হোটেল মাঝেমধ্যে পাবেন।
অভ্যন্তরীন যানবাহনঃ
জেলা দুটির অভ্যন্তরে পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে সিএনজি,অটোরিক্সা পাবেন। রিজার্ভ নিলে সবচেয়ে সুবিধা হবে। বাসও চলে বিভিন্ন রুটে। একবার রিজার্ভ করলে বেশ কয়েকটা স্পট ঘুরতে পারবেন এমনভাবে পরিকল্পনা করুন। আমি এ কথাটা বারবারই বলি গাড়ী রিজার্ভ করার ক্ষেত্রে দরদাম করবেন, নইলে ঠকবেন। নিজের মতো করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন এবং ভ্রমণ উপভোগ করুন।

 

ঢাকা থেকে আসা,থাকা,খাওয়া সবকিছুর সন্ধান তো দিলাম এবার আমাদের চোখে জামালপুর-শেরপুর অভিযান দেখুন!

আগেই বলেছি অামরা বগুড়া থেকে ভ্রমনে গিয়েছিলাম। তাই সড়ক পথে টাঙ্গাইল হয়ে ঘুরপথে যাবার চিন্তা মাথায় আনিনি। বেছে নিয়েছিলাম শর্টকাট রাস্তা। ওহ শুধু রাস্তা না নদীও ছিল! আমরা সারিয়াকান্দী কালিতলা ঘাট থেকে জামতৈল ঘাট হয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা সদর দিয়ে জামালপুর সদরে প্রবেশ করেছিলাম। বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কালিতলা ঘাট থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা এবং বিকেল ৪টায় সরকারীভাবে দুটি ফেরি সার্ভিস চালু আছে ওপাশের জামতৈল ঘাট পর্যন্ত। ভাড়া নিবে ৩০ টাকা, বিশাল যমুনা নদী পার হতে সময় লাগবে দুই ঘন্টার মতো। এছাড়া দিনের অন্য সময় যেতে চাইলে নৌকা রিজার্ভ নিয়ে যেতে পারবেন। ১৫-২০ জন হলে ভাড়া পড়বে ১০০ টাকার মতো জনপ্রতি। যেতে সময় লাগবে এক ঘন্টার মতো। একটু অপেক্ষা করলেই ১৫-২০ যাত্রী হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন বিকেল ৪টার পরে কোন নৌকা বা ফেরী ঘাট থেকে ছেড়ে যায় না। কারন সন্ধ্যা বা রাতে নদী পথে নৌকা চলাচল নিরাপদ নয়।
20181112_134315জামতৈল যমুনার পূর্বপাশে হলেও এটা বগুড়া জেলার অন্তর্গত আর মাদারগঞ্জ জামালপুরের একটি উপজেলা। জামতৈল ঘাটে নামার পর সেখানেই ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা পাবেন মাদারগঞ্জ সদরে যাবার জন্য,ভাড়া নিবে ২০-৩০ টাকা,সময় লাগবে ৩০ মিনিটের মতো। মাদারগঞ্জে থাকা বা খাবারের তেমন কোন ভালো ব্যবস্থা নাই। মাদারগঞ্জ থেকে কোন বাস জামালপুর চলাচল করে না। ভরসা করতে হবে সিএনজি এবং চার চাকার হিউম্যান হলারের উপর। সিএনজিতে ভাড়া ৬০-৭০ টাকা আর হিউম্যান হলারে ৩০-৪০ টাকা নিবে।

20181112_134409.jpg
মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবন     ©ছবি:লেখক

জামালপুর শহরে পৌছাতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘন্টার মতো। জামালপুরের আশপাশটা দেখে একরাত থেকে আমরা পরের দিন ভোরে রওনা হলাম শেরপুরের দিকে। জামালপুর শহরটা ব্রক্ষপুত্র নদীর তীরে। এই নদীর উপর একটা সুন্দর ও বেশ বড় সেতু নির্মিত হয়েছে,নাম ব্রক্ষপুত্র সেতু। সেতুর উপর থেকে শেরপুর যাবার জন্য বাস,সিএনজি,অটোরিক্সা পাবেন। আমরা গিয়েছিলাম অটোরিক্সায় ভাড়া নিয়েছিল ২৫ টাকা,সময় লেগেছিল ৩০ মিনিটের মতো। অটোরিক্সা শহর পার হয়ে আমাদের শাপলা চত্বরে নামিয়ে দিয়েছিল। জায়গাটার নাম সম্ভবত খোয়ারপাড়।
জামালপুর-শেরপুর ট্যুরে ভাগ্যক্রমে বেশ কয়েকজন শুভাকাঙ্খী জুটেছিল আমাদের, মূলত জামালপুর পৌছার পর তাদের ডিরেকশনেই আমরা চলেছি। ধন্যবাদ দিয়ে তাদের ছোট করতে চাই না,কারন তারা আমাদের জন্য যা করেছে তা এক কথায় অনেক,অনেক করেছে। এর মধ্যে ফরহাদ, নিজাম, গাজী এবং খায়রুলের কথা না বললেই নয়।
শাপলা মোড় থেকে আমরা সিএনজিতে করে শ্রীবর্দী গিয়েছিলাম। সময় কমই লাগে,ভাড়াও কম। বাসেও যেতে পারবেন। সেখান থেকে অটোরিক্সা রিজার্ভ নিতে পারবেন গজনী অবকাশ কেন্দ্র হয়ে মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যন্ত। চাইলে সেই অটোতেই আবার ফিরতে পারেন শ্রীবর্দী,সেখান থেকে শেরপুর। অন্য পথেও সরাসরি ঝিনাইগাতী হয়ে গজনী আসতে ও শেরপুর ফিরতে পারবেন,এতে সময় বাঁচবে। ঝিনাইগাতী পর্যন্ত লোকাল বাসে আসতে পারবেন। আমাদের শ্রীবর্দী যাবার অন্য কারন ছিল। তাছাড়া সিএনজি, অটোরিক্সাও পাবেন। আমরা মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যন্ত যাবার চুক্তিতে রিজার্ভ নিয়েছিলাম, ভাড়া নিয়েছিল ৮০০ টাকা। এই যাত্রা পথে আপনি অনেক কিছুই দেখতে পাবেন। মসৃন উচুনিচু পিচঢালা পথ। দুপাশে বিভিন্ন গাছের ঘন বাগান,মাঝে মধ্যে উকি দেবে দুরের পাহাড়। ড্রাইভারকে বললে মাঝে মধ্যে গাড়ী থামিয়ে আপনাকে প্রকৃতির স্বাদ নিতে দেবে। চলতি পথে দেখবেন রাস্তার দুপাশে খোলা তারের বেড়া! এই বেড়া দেয়া হয়েছে রাতে বন্যহাতির আক্রমন থেকে মানুষের জান-মালকে রক্ষা করবার জন্য। রাতে এই তারে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া থাকে।

20181112_140136.jpg
শ্রীবর্দী-গজনী রোড,ঝিনাইগাতী   ©ছবি:নাজমুল ইসলাম

এভাবে প্রকৃতির নেশায় ডুবে থাকতে থাকতে কখন যে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে  চলে আসবেন বুঝতেই পারবেন না!
টিকেট কেটে ভিতরে ঢুকতে হয়। গজনী অবকাশ কেন্দ্রটি সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতিতে। এখানে একই সাথে পাহাড়, হ্রদ, বন-জঙ্গল ও হাজারো পাখির কলরব পাবেন। পাহাড়ে সারি সারি শাল, সেগুন, মহুয়া, গজারী, আকাশমনি, ইউকেলিপটাস সহ আরো নাম না জানা হরেক রকমের পাহাড়ি গাছ, বিভিন্ন পাহাড়ি ফুল, ছায়া ঢাকা পরিবেশ পাবেন। যেন বিশাল ক্যানভাসে শিল্পীর রঙ তুলির আঁচড়। এখানে একটি বেশ উচু ওয়াচ টাওয়ার আছে। টাওয়ারটি থেকে পুরো গজনী এক পলকেই দেখতে পারবেন, দারুন ভিউ পাওয়া যায় ওয়াচ টাওয়ারটা থেকে। অবকাশটির ভিতরে বেশ চিত্তবিনোদনমূলক বেশ কিছু আইটেম আছে। টিকিট কেটে সব উপভোগ করতে পারবেন। এমন পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

20181112_135005.jpg
দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা,গজনী     ©ছবি:লেখক

প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন গজনী গারো পাহাড়ের মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। জেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত এ অবকাশ কেন্দ্রটি থেকে ভারতের মেঘালয়ের সুউচ্চ পাহাড়গুলো আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে! তবে সাবধান সীমান্তের কাছাকাছি ঘেষার চেষ্টা করবেন না, বিপদ হতে পারে,অামাদের যেতে দেয়া হয়নি। এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস,তাই তারা বিব্রত হয় এমন কাজ করবেন না।
20181112_134930এবার মধুটিলা ইকোপার্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা আরম্ভ!
গজনীর চেয়ে মধুটিলা ইকো পার্ক আমার ভালো লেগেছে। ভারত সীমান্ত ঘেষা নালিতাবাড়ী উপজেলায় এই পার্কটির অবস্থান। এখানেও টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর গাছ রয়েছে এখানে। বেশ কয়েকটি উচু উচু টিলার সমন্বয়ে গঠিত এই পার্ক,টিলাগুলো এতো সবুজ ও সুন্দর যা আপনাকে ভাষায় বোঝানো যাবে না! ১৯৯৯ সালে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় মনোরম পিকনিক স্পটটি গড়ে তোলা হয়েছে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওই পিকনিক কেন্দ্রে প্রতিবছর প্রচুর ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণ হয়। এখানেও গজনীর মতো অনেক আইটেম রয়েছে,যা আপনার মনকে আনন্দিত করবে।

20181112_134434.jpg
মধুটিলা ইকোপার্কের ওয়াচ টাওয়ার     ©ছবি:লেখক

এখানেও সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে,এতে করে আপনি পুরো পার্কটি একনজরেই পুরোটা দেখতে পারবেন। পাহাড়ে চড়ার জন্য বেশ কয়েক জায়গায় সিড়ির ব্যবস্থা আছে। পার্কের ভিতরে অনেক জীব-জন্তুর ভাস্কর্য রয়েছে। শো-পিছ কেনাকাটা করার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান। এখানে আপনি শেরপুর থেকে সরাসরি আসতে পারবেন, এজন্য আপনাকে লোকাল বাসে করে নালিতাবাড়ীর নন্নী পর্যন্ত আসতে হবে। এরপর রিক্সা বা অটোরিক্সা কিংবা সিএনজি করে পার্ক পর্যন্ত আসবেন। ফিরবেন একই উপায়ে।

20181112_134853.jpg
পাহাড়ে ওঠার জন্য রয়েছে এমন সিড়ি    ©ছবি:লেখক

কিছু প্রয়োজনীয় উপদেশ!
এই উপদেশ গুলো গজনী ও মধুটিলা ইকোপার্ক সহ পুরো পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য;
১.পাহাড়ে আদিবাসীদের ছবি তুলবেন না। কথা বলারও দরকার নাই।
২.একা হয়ে পাহাড়ে ঘুরবেন না। সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডের দিকে যাবেন না।
৩.মাদক কারবারি বা দালালদের থেকে দূরে-বহুদূরে থাকুন।
৪.সন্ধার আগেই পাহাড়ি এলাকার স্পট গুলো ত্যাগ করুন।
৫.স্থানীয় কারো সাথে তর্কে জড়াবেন না।
৬.মধুটিলা ইকোপার্ক ও গজনী অবকাশ কেন্দ্র বেশ নির্জন। তাই সাবধানে থাকুন। এসব স্থানে ছিনতাইয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে।

20181112_134810.jpg
ছবি তোলার উৎসব!      ©ছবি:লেখক

উপরে মূলত শেরপুর-জামালপুরের প্রধান দুটি পর্যটন স্পট নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনি অন্য স্পটগুলোও নিজের মতো করে সময় সাজিয়ে নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন। অবশ্যই ভালো লাগবে আপনার। গজনী ও মধুটিলায় প্রতিবছরের শুরুতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর মানুষ শিক্ষা সফরে আসে। তাছাড়া সারা বছরই মোটামুটি পর্যটকের আনাগোনা থাকে এখানে।
এবার ফেরার পালাঃ

20181112_134727
ছবি তোলার উৎসব!     ©ছবি:শিহাব আহমেদ

ঢাকায় ফিরতে চাইলে-
প্রথমে আপনাকে শেরপুর বা জামালপুর শহরে আসতে হবে। তারপর স্ট্যান্ডে গিয়ে টিকেট কাটতে হবে। যথেষ্ট বাস পাবেন ঢাকায় ফেরার জন্য। চাইলে জামালপুর থেকে ট্রেনেও ঢাকা ফিরতে পারেন।
বগুড়ায় ফিরতে চাইলে-
যেভাবে সারিয়াকান্দী হয়ে এসেছেন সেভাবেই ফিরতে হবে। তবে অবশ্যই বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে জামতৈল ঘাটে পৌঁছাতে হবে, কারন চারটার পরে আর কোন নৌযান ঘাট থেকে সারিয়াকান্দীর কালিতলা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে না।
মনে রাখবেনঃ
প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন,স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন। ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।
*আমাদের ভ্রমনের সময়ের আলোকে লেখা। অতএব সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*লেখকের পূর্বানুমতি ছাড়া পুরো বা কোন অংশ এডিট কিংবা কপি করা অনুচিত।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
*তথ্যগত সহায়তা ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।
©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
TM:August 2018
TD:25-27 (2 nights 3 days)

 

 

 

 

 

কক্সবাজার ভ্রমণ

যারা দেশের পর্যটন সম্পর্কে মোটামুটি খোঁজ খবর রাখেন তাদের কাছে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে বলার কিছু নাই। বাংলাদেশের পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে সবার আগে যার নাম আসে সেটাই কক্সবাজার! কক্সবাজারের রুপের জৌলুস জানা থাকলেও সময়ের অভাবে অনেকের ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই সময় বের করে যখন পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যাবেন তখন এই লেখাটা আপনার সহায়ক হবে আশা করি।

পর্যটন সম্পর্কে আলোচনার আগে জেনে নেই জেলা কক্সবাজার সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল কক্সবাজার। এটি বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণের জেলা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কক্সবাজার ১ নং সেক্টরের অধীন ছিল। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা,পূর্বে বান্দরবান জেলা ও নাফ নদী এবং মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ এবং দক্ষিণে ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
১.কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
২.হিমছড়ি।
৩.ইনানী সমুদ্র সৈকত।
৪.সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
৫.ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক।
৬.ছেঁড়া দ্বীপ।
৭.শাহপুরীর দ্বীপ।
৮.সোনাদিয়া দ্বীপ।
৯.আদিনাথ মন্দির, মহেশখালী।
১০.শাহ ওমরের সমাধি, চকরিয়া।
১১.রাখাইন পাড়া।
১২.বৌদ্ধ বিহার।

কিভাবে যাবেন এবং ভাড়া কত-
বাস যোগেঃ
যে কোন প্রান্ত থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে যাবার সবচেয়ে ভালো উপায় বাস সার্ভিস। ঢাকা থেকে সরাসরি প্রতিদিন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে অনেক পরিবহন কোম্পানীর বাস যায়। হানিফ,শ্যামলী,সোহাগ, গ্রীন লাইন, ঈগল,এস আলম সহ অন্যান্য পরিবহনের বাস চলাচল করে। ঢাকার ফকিরাপুল,কল্যানপুর, আরামবাগ, মতিঝিলসহ ছোট বড় প্রায় সকল স্ট্যান্ড থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। এসি ও নন এসি, ডিলাক্স ও সাধারণ এসব সরাসরি বাস পরিবহনের ভাড়া পড়বে ৭০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। পর্যটন মৌসুমের বিড়ম্বনা এড়াতে আপনি বাসের টিকিট অগ্রীম কাটতে পারেন।
আবার ঢাকা থেকে বা দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন। এজন্য আপনাকে চট্টগ্রামে এসে কক্সবাজারগামী আন্তঃজেলা বাস সার্ভিসে উঠতে হবে। বাজেট বেশী থাকলে মাইক্রোবাসও ভাড়া নিতে পারেন।
ট্রেন যোগেঃ
এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে করেও চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসতে পারবেন। পরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যায়। তবে টিকেট বুকিং আগেভাগেই করে রাখা ভালো।
বিমান যোগেঃ
কক্সবাজার পৌছার সবচেয়ে ভালো ও আরামদায়ক মাধ্যম হলো আকাশ পথ। বিমানে করেও কক্সবাজার আসতে পারবেন। তবে এজন্য পকেট সামান্য ভারী থাকলেই হবে!

20181106_164702.jpg
লাবনী সী-পয়েন্ট        ©ছবি:লেখক

কক্সবাজার আসা তো হলো এখন চলুন প্রকৃতির স্বাদ নিই!
সারি সারি ঝাউ গাছের বাগান, বালুর নরম বিছানা, সামনে সুবিশাল সমুদ্র। কক্সবাজার গেলে সকালে-বিকেলে শুধু সমুদ্রতীর ধরে হেটে বেড়াতে মন চাইবে। নীল জলরাশি আপনাকে মুগ্ধ করেই ছাড়বে। সমুদ্রের গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার,যেটি বিশ্বরেকর্ড করেছে ২০০২ সালে। বিশ্বের সব দেশের নাগরিক এই কক্সবাজার ভ্রমণ করে থাকে। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপুরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। জেলার বুক চিরে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়া ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার উপরে।

20181106_165147.jpg
এখানে বালুর রাজত্ব!       ©ছবি:লেখক

গোসল করবেন? তবে সাবধান!….
কক্সবাজার গেলেন আর গোসল দিলেন না, এটা হতে পারে না!
সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। এমন তথ্য সম্পর্কিত লাইফ গার্ডের বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসলে নামা নিরাপদ। এ সময় তাই জোয়ারের সময় নির্দেশিত থাকে, পাশাপাশি সবুজ পতাকা ওড়ানো হয়।
ভাটার সময়ে সমুদ্রে গোসল বিপজ্জনক ভাটার টানে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ। তাই এ সময় বিচ এলাকায় ভাটার সময় লেখাসহ লাল পতাকা ওড়ানো থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকুন। কোনোভাবেই দূরে যাবেন না। প্রয়োজনে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত লাইফ গার্ডের সহায়তা নিন। ওদের জানিয়ে বিচে নামুন। জোয়ার ভাটার খবর না নিয়ে কোন ভাবেই সাগরে নামবেন না।
ছবি তুলুন!….
কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমে শ দুয়েক বিচ ফটোগ্রাফার পর্যটকদের ছবি তুলে থাকে। প্রায় বিশ মিনিটের মধ্যেই এসব ছবি প্রিন্ট করে পর্যটকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ডিএসএলআর ক্যামেরা হাতে লাল পোশাক পরা এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে আইডি কার্ড। বেশ কয়েকটি স্টুডিও এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সরকারি রেট অনুযায়ী ছবির মূল্য পরিশোধ করুন। আর হ্যা অবশ্যই কতগুলো ছবি তুলবেন তা আগেই বলে নিবেন, কারন ওদের ছবি তোলার গতি বিদ্যূতের মতো! ৫ মিনিটের মধ্যেই ৫০ টি ছবি তুলে ফেলতে পারে!। ১৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের একশটির বেশী ছবি তুলে ফেলে ছিল। ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত সাইনবোর্ড মেইন বিচে দেখতে পাওয়া যায়। এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ছবি তোলার আগে আইডি কার্ড দেখে নেওয়া ভালো।
স্পিডবোট ভাড়াঃ
বিচে অনেকগুলো স্পিডবোট চলে। মেইন বিচ থেকে এগুলো চলাচল করে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত। ভাড়া এক রাউন্ড ১৫০ টাকা। এছাড়া খোলা স্পিডবোটের সাহায্যে চলে লাইফ বোট জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকার মতো।
বাইক ভাড়াঃ
তিন চাকার বেশ কয়েকটি বিচে চলার উপযোগী বাইক কক্সবাজার সৈকতে চলাচল করে। প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে এসব বাইকে রাউন্ড প্রতি ৮০-১০০ টাকা করে পর্যটকদের ব্যয় করতে হয়। ভরা মৌসুমে এসবের ভাড়ার তারতম্য হতে পারে।

20181106_164741.jpg
মেরিন ড্রাইভ রোড       ©ছবি:নাজমুল ইসলাম

হিমছড়ি ও ইনানী বিচ ভ্রমনঃ
কক্সবাজারের ১২ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। একটি হলো হিমছড়ি এবং অন্যটি হলো ইনানী। কক্সবাজার সমুদ্র থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত ইনানী সমুদ্র সৈকত। আর এই সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে মাত্র ১২ কিলোমিটার গেলেই পাওয়া যাবে আরেক দর্শনীয় পর্যটন স্থান হিমছড়ি। হিমছড়ির পাহাড়েও উঠতে পারেন,আমরা পাহাড়ে উঠেছিলাম।

20180306_162440.jpg
হিমছড়ি পাহাড়ের চূড়ায় আমরা       ©ছবি:লেখক

যেতে হয় মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই সড়ক নির্মান করেছে। সড়কটির একপাশে উচু পাহাড় আরেক পাশে বঙ্গোপসাগর, দারুন অনুভূতি হবে আপনার। কলাতলী থেকে জিপে চড়ে যেতে পারেন এ জায়গা দুটিতে। খুব সকালে গেলে জায়গা দুটি ঘুরে আবার দুপুরের মধ্যেই ফিরতে পারবেন কক্সবাজার শহরে। কক্সবাজার থেকে জিপে যেতে পারবেন এখানে। রিজার্ভ নিলে খরচ পড়বে দেড় থেকে আড়াইহাজার টাকা। আর লোকাল জিপে গেলে এ জায়গা দুটি ঘুরে আসতে জনপ্রতি খরচ হবে দুই আড়াইশ টাকা। অটোরিক্সাও ভাড়া পাওয়া যায়। রিজার্ভ ভাড়া নেবে ৫০০-৭০০ টাকা। উঠতে পারবেন ৬/৭ জনের মতো। ইনানীতে খাবারের দাম একটু বেশী।

থাকার ব্যবস্থাঃ
এখানে থাকা সংক্রান্ত কোন টেনশনের কারনই নাই। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। এখানে আন্তর্জাতিকমানের বেশ কয়েকটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া সরকারি ও ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় বিভিন্ন মানের অনেক রিসোর্ট, হোটেল ও বোর্ডিং হাউস। সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকায় কক্সবাজারে যাতযাপন করা যায়। তবে কক্সবাজার ভ্রমণের পূর্বে ফোনে যোগাযোগ করে অগ্রীম বুকিং দিয়ে হোটেল নিশ্চিত করা ভালো। সরাসরি গিয়েও কথা বলে রুম ভাড়া নেওয়া যায়, এতে সমস্যা হবার কথা নয়। আমরা মাঝারী মানের হোটেলে উঠেছিলাম। ২ বেডের রুম ভাড়া নিয়েছিল ৮০০ টাকা। থাকা যায় ৪ জন। তখন সিজন প্রায় শেষের দিকে।

20181106_165059.jpg
সামুদ্রিক চিংড়ী ও কাঁকড়া ভাজা!       ©ছবি:লেখক

খাবার ও রেস্টুরেন্টঃ
প্রায় প্রতিটি আবাসিক হোটেল বা হোটেলের সন্নিকটে রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেল রয়েছে। কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ থাকে সাগরের বিভিন্ন মাছ। বিশেষ করে চিংড়ি, রূপচাঁদা, লাইট্যা, ছুরি মাছসহ মজাদার শুটকি মাছের ভর্তার প্রতিই পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি থাকে। খাবারের মেন্যু অনুযায়ী একেক রেস্টুরেন্টে একেক ধরনের মূল্য তালিকা দেখা যায়। তবে বর্তমানে সরকার হোটেল গুলোতে মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে চড়া দামের সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। মূল্য তালিকা ভোজন রসিকদের আশ্বস্ত করেছে। আপনি মোটামুটি ৫০-৫০০ টাকার মধ্যে সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী মজাদার খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। তবে খাবার গ্রহণের পূর্বে খাবারের নাম, মূল্য এবং তৈরির সময় সম্পর্কে জেনে নিন। প্রয়োজনে খাদ্যের তালিকা ও মূল্য টুকে রাখুন। তালিকা সঙ্গে মিলিয়ে বিল প্রদান করুন। ঘুরতে গিয়ে বোকা হলে চলবে না!

20181106_164824.jpg
পাহাড়ে চড়া বেশ কষ্টকর!       ©ছবি:শিহাব আহমেদ

উপরে আলোচনা করেছি মূলত লাবনী সী-পয়েন্ট,কলাতলী এলাকা,হিমছড়ী ও ইনানী সৈকত নিয়ে। এর বাইরে কক্সবাজারের অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো ঘুরতে চাইলে আপনাকে নিজের মতো করে ভ্রমন পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সকল স্পট ঘুরে দেখতে চাইলে আপনাকে ৩-৪ দিন কক্সবাজারে অবস্থান করতে হবে। কক্সবাজার শহর বা কলাতলী পয়েন্ট থেকেই সকল স্পটগুলোতে যাওয়ার বাহন পাবেন।
অন্যান্য স্পটগুলো-
১.রামু রাবার বাগান-
১৯৬০-৬১ সালে অনাবাদি জমি জরিপ করে গবেষণার মাধ্যমে রামুতে রাবার চাষাবাদ শুরু করা হয়। রামুর ঐতিহ্যবাহী এ রাবার বাগান আজ পর্যটনের একটি অংশ।
২.রামু বৌদ্ধ বিহার
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা রামু। ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ পুরাকীর্তিসমৃদ্ধ রামুতে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন।
৩.মারমেইড ইকো রিসোর্ট-
ইনানীর কাছে পেঁচারদিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে কক্সবাজার ভ্রমণকারীদের বড় আকর্ষণ পেঁচার দ্বীপ। এক পাশে ঝাউবনসমৃদ্ধ সমুদ্রসৈকত, অন্য পাশে উঁচু পাহাড়।
৪.শাহপরীর দ্বীপ
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থিত শাহপুরীর দ্বীপ। এটি মূলত সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
৫.সোনাদিয়া দ্বীপ
সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার একটি সুন্দর দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কি:মি:।
৬.কুতুবদিয়া দ্বীপ-
প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কুতুবদিয়া দ্বীপ যা কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। কুতুবদিয়া দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
৭.ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক-
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

এবার ফেরার পালাঃ
কলাতলী পয়েন্টে প্রায় সকল বাস কোম্পানীর কাউন্টার রয়েছে। আসার দিন সকালে টিকিট কেটে রাখলে ভালো হয়। তবে চাপ কম থাকলে নগদেও কেটে গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

মনে রাখবেনঃ
প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন,স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন। কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের ব্যাপক কার্যক্রম রয়েছে।
ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।

*আমাদের ভ্রমনের সময়ের আলোকে লেখা। অতএব সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
*তথ্যগত কিছু সহায়তা উইকিপিডিয়া এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।

©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
TM:March 2018
TD:03-07 (4 nights 3 days)

নেত্রকোনা জেলা ভ্রমণ

যারা প্রথমবারের মতো নেত্রকোনা ভ্রমণে যাবেন তাদের জন্য এই লেখা সহায়ক হবে আশা করি।

আমাদের বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জেলায় অপরুপ সৌন্দর্য বিদ্যমান। নেত্রকোনা জেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। নেত্রকোনা জেলার দর্শনীয় স্থান গুলো নিয়ে আলোচনার আগে চলুন জেলা নেত্রকোনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিই।

হাওরের দেশ নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুড়ি, কলমাকান্দায় কম বেশি ৫৬ টি হাওর ও বিল আছে। যে ৪টি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হয়েছে নেত্রকোনা তার একটি।মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনা ১১ নং সেক্টরের অধীন ছিল। নেত্রকোনা ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ, পূর্বে সুনামগঞ্জ ও পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা। মোট ১০টি উপজেলা নিয়ে নেত্রকোনা জেলা গঠিত। এ জেলার পর্যটন দারুন সম্ভাবনাময়।

নেত্রকোনা জেলার দর্শর্ণীয় স্থানসমূহঃ

১.বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি।

২.ভারত থেকে নেমে আসা দারুণ সোমেশ্বরী নদী।

৩.চীনামাটির পাহাড়।

৪.সাধু যোসেফের ধর্ম পল্লী।

৫.হাজং মাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ।

৬.দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি।

৭.গারো পাহাড়।

৮.কংস নদী।

20181102_153950.jpgমায়াবী সোমেশ্বরী নদী        ©ছবি:লেখক

বিশেষ নোটঃ নেত্রকোনা ভ্রমনের যাতায়াত সংক্রান্ত আলোচনার আগে বলে নিই আমরা বগুড়া থেকে ভ্রমনে গিয়েছিলাম। তাই ঢাকা থেকে নেত্রকোনা (দূর্গাপুর) ভ্রমনের বিষয়ে যে আলোচনা নিচে করেছি সেটা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষন করে ভালো একটা উপায় বের করেছি। তাই ঢাকা থেকে দূর্গাপুর পর্যন্ত রুটের সকল যানবাহনের ভাড়ার ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য হতে পারে, তেমনি তারতম্য হতে পারে গাড়ির সময়ের ক্ষেত্রেও।

ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যাওয়ার উপায়ঃ

ঢাকা থেকে বাস যোগেঃ

ঢাকা থেকে সুসং দুর্গাপুরে (নেত্রকোনা) যাওয়ার এবং ফেরার জন্য সবচাইতে ভালো মাধ্যম হবে বাস সার্ভিস। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে দিনে ও রাতে বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। বেশ কিছু বাস সুসং দূর্গাপুর পর্যন্ত যায়। এই বাস আপনাকে সুসং দুর্গাপুর এর প্রাণকেন্দ্র তালুকদার প্লাজার সামনে নিয়ে নামাবে। ভাড়া পড়বে ৩০০-৩২০ টাকা।

রাত ১২ টায় মহাখালী টার্মিনাল থেকে দিনের সর্বশেষ বাস গুলো ছেড়ে যায়। রাতের শেষ গাড়িতে যেতে চাইলে টিকিট বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন,এতে সুবিধা হবে। কারন সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিন পর্যটন এলাকায় একটু চাপ থাকে। আবার ঢাকা ফেরার জন্য দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র তালুকদার প্লাজার সামনে থেকে রাত এগারটায় এবং সাড়ে এগারটায় দুটি বাস ঢাকার উদ্দ্যশ্যে ছেড়ে যায়। আপনি এখান থেকে টিকিট সংগ্রহ করে বাসে ঢাকা ফিরতে পারেন। ভোর পাঁচটার মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছে যাবেন। স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপদ ভ্রমনের জন্য এটাই সবচেয়ে ভাল উপায়।

ঢাকা-নেত্রকোনা-দূর্গাপুর রুটে বিআরটিসির কোন বাস সার্ভিস আছে কিনা জানা নেই।

অন্য উপায়েঃ

ময়মনসিংহ হয়েও ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেতে পারবেন। তবে এতে ঝক্কি বেশী পোহাতে হবে। বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে চলে আসুন ময়মনসিংহে। ঢাকা থেকে আসা বেশীর ভাগ বাস মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যায়। ময়মনসিংহ শহরের যেখানেই নামিয়ে দিক না কেন আপনি নেমে সরাসরি চলে যাবেন ব্রীজ এলাকায়। এই ব্রীজটা মূলত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ নামে পরিচিত)। রিক্সা/অটোরিক্সা চালকদের বললেই নিয়ে যাবে। ব্রিজের সামনে থেকে নেত্রকোনাগামী বাসে উঠে পড়ুন। সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। বলে রাখা ভালো রাস্তার অবস্থা খুব একটা ভালো না। এরপর নেত্রকোনা হয়ে সুসং দুর্গাপুরে পৌঁছানোর পর নেমে রিকশায় চলে যান গেস্ট হাউসে। রাস্তা শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত খুবই ভাল সুন্দর উন্নত এবং আরামদায়ক। শ্যামগঞ্জ থেকে ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা কার্পেটিং ছাড়া। মোটামুটি খানাখন্দ আছে। কারণ ভারি ভারি বালু,পাথর এবং কয়লার ট্রাক চলাচল করে এই রাস্তায়,তাই রাস্তা টেকে না। বাস এর ভাড়া ৮০ টাকা। বাস থেকে সিএনজি ভ্রমন আরামদায়ক। সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মতো, ভাড়া ১৫০ টাকা জন প্রতি। এক সিএনজি তে পাঁচ জন উঠতে হয়।

ট্রেনেও যেতে পারেন-

যারা ট্রেনে যেতে চান তাদের জন্য ট্রেনের ব্যবস্থাও আছে। আন্তঃ নগর ট্রেনে ময়মনসিংহ পর্যন্ত যেতে পারেন। ময়মনসিংহ পর্যন্ত রেল এর ভাড়া প্রথম শ্রেণী ১৮০ টাকা, চেয়ার কোচ ১৩০ টাকা এবং শোভন ১১০টাকা। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। কমলাপুর স্টেশন থেকে এগুলো যাত্রা করে। ট্রেন থেকে ময়মনসিংহে নেমে বাসে গেলে উপরোক্ত উপায়ে যাবেন।

আবার যেতে পারেন লোকাল ট্রেন জারিয়া এক্সপ্রেসেও। ময়মনসিংহ ষ্টেশনে নেমে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল এর লোকাল ট্রেনে উঠে জারিয়া এসে নামতে হবে। এ রুটে দিনে চারবার ট্রেন চলাচল করে। সকাল ৬ টা,সকাল ১১ টা,বিকাল ৪ টা ও রাত ৮ টায়। ময়মনসিংহ হতে জারিয়া ট্রেন ভাড়া ১৮ টাকা। জারিয়া হতে দুর্গাপুরের ভাড়া টমটমে ২৫ টাকা , সিএনজিতে ৪০ এবং মোটর সাইকেলে ৫০ টাকা জনপ্রতি। (এই রুটে সময়ের ব্যবধানে সকল ভাড়া একটু কম বেশী হতে পারে)।

20181102_013210.jpg
কমলার পাহাড়ের চূড়ায়!        ©ছবি:লেখক

দূর্গাপুর আসার পর-

থাকার ব্যবস্থাঃ

দূর্গাপুর নামার পর রাতে থাকতে চাইলে সরকারী গেস্ট হাউজে বুকিং দিতে পারেন, তবে এখানে থাকতে সম্ভবত পূর্ব অনুমতি লাগে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের গড়ে ওঠা বেশ ভালো ও মোটামুটি মানের হোটেলে থাকতে পারবেন। ভাড়া পড়বে রুম প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা,থাকা যাবে ২-৪ জন। বেশী মানুষ একসাথে থাকতে চাইলে ডরমেটরি রুমও ভাড়া পাবেন। ভাড়া বেড প্রতি ২০০টাকা। ভিআইপি রুমের ব্যবস্থাও আছে। তবে আমার মনে হয় নেত্রকোনা ভ্রমনে গিয়ে থাকার কোন প্রয়োজনই নাই। কারন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে রিজার্ভ মটর সাইকেলে ৬-৭ ঘন্টার বেশী লাগবে না। আপনি দিনেই ব্যাক করতে পারবেন। আর এজন্য আপনাকে ভোরে নেত্রকোনা পৌছাতে হবে,এতে করে সন্ধ্যায় ব্যাক করতে পারবেন।

খাবার ব্যবস্থাঃ

এখানে খাবার নিয়ে চিন্তার কোন কারন নেই। যে হোটেলে থাকবেন অনেক সময় সে হোটেলই খাবার সরবরাহ করে। তাছাড়া বাজারের উপর অনেক খাবার হোটেল পাবেন। খাবারের মূল্য স্বাভাবিক।

যানবাহন ব্যবস্থাঃ

এই এলাকার রাস্তাঘাট বেশ ভাঙ্গা। তাই গনপরিবহন কম চলে আর রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে সময়ও অপচয় হয়। এই অঞ্চলের মানুষ অনেকটাই ভাড়া মটর সাইকেলের উপর নির্ভরশীল। তাই আপনাকে মটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়ে স্পটগুলো ঘুরতে হবে। চড়তে পারবেন ২জন। রিজার্ভ করার সময় দরদাম করে নিবেন,নইলে ঠকবেন এটা নিশ্চিত! কারণ ভাড়া বেশী চায়। দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে ৬ঘন্টার মতো লাগে আর এই সময়ের জন্য মটর সাইকেল রিজার্ভ নিলে ১০০০-১২০০ টাকা নেবে। অটোরিক্সা/রিক্সাও ভাড়া পাওয়া যায়।

আমাদের ভ্রমণযাত্রা ও অভিঙ্গতাঃ

বগুড়া থেকে নিরাপদ ব্যানারে সরকার ট্রাভেলস এর বাস সহ বেশ কিছু গাড়ি ময়মনসিংহে চলাচল করে। ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা,তবে ঈদের সময় ভাড়া বেশী নেবে। সকাল থেকেই বাস পাবেন। ময়মনসিংহে আমাদের শম্ভুগঞ্জ ব্রিজে নামিয়ে দিয়েছিল। ব্রীজ থেকে নেত্রকোনাগামী গাড়িতে উঠেছিলাম। ভাড়া নিয়েছিল ৪০ টাকা। নেত্রকোনা বাসস্ট্যান্ডে নেমে অটোরিক্সা করে রাজুর বাজার নামক স্থানে যেতে হবে। ভাড়া ২০ টাকা। বাসস্ট্যান্ড থেকে কলমাকান্দায় বাস যায়, তবে খারাপ রাস্তার কারনে ৩২ কিলোমিটার রাস্তা যেতে ৪ ঘন্টার মতো সময় লাগবে। তাই ঝামেলা এড়াতে এখান থেকে কলমাকান্দাগামী মটর সাইকেল ভাড়া নিয়েছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ১০০ করে। বর্ষাকাল হওয়ার কারনে আমরা কলমাকান্দায় হাওড়ের একটা অংশ দেখতে গিয়েছিলাম, সফলও হয়েছিলাম। উপজেলা সদরের পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে হাওড়ের সৌন্দর্য। যেতে দেরি হবার করানে আমাদের এক রাত কলমাকান্দায় থাকতে হয়েছিল। কলমাকান্দায়ও বেশ উপভোগ্য জায়গা আছে। উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে গেলেই সীমান্ত, দুরে মেঘালয়ের পাহাড়ের হাতছানি। পরদিন সকালে কলমাকান্দা বাজার থেকে মোটরসাইকেল রিজার্ভ নিয়ে দূর্গাপুর সদর হয়ে জমিদারবাড়ী ঘুরে চলে গিয়েছিলাম সুনীল সোমেশ্বরী নদীতে। এই পথে আপনি চললে অনেক কিছুই দেখতে পারবেন। পার হতে হবে নৌকায়। যেতে যেতে দেখবেন সোমেশ্বরী নদী থেকে পাথর উত্তোলনের দারুণ দৃশ্য। নদীটা সম্পর্কে এককথায় বলতে গেলে অপূর্ব। সুদুরে দাড়িয়ে থাকা মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় স্পষ্ট দেখতে পাবেন, মনের ভিতর অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করবে। নদী পার হয়ে চলে যান বিরিশিরি কালচারাল একাডেমীতে। বিরিশিরি মূলত একটা ইউনিয়নের নাম। এটা দূর্গাপুর থানাধীন।

20181102_012316.jpgচীনামাটির পাহাড় দেখতে গিয়ে ছবি তুলতে হয়!         ©ছবি:নাজমুল ইসলাম

সেখানকার দৃশ্য অবলোকন করে চলে আসুন চীনামাটির পাহাড়ে। দেশের বৃহত্তম এই চীনামাটির পাহাড় দেখতে অসাধারণ। পরিস্কার নীল জলরাশী। এমন পানি দেখলে আপনার সাতার কাটতে,গোসল দিতে ইচ্ছে করবে। তবে এখানে গোসল করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড সাটানো আছে! অবশ্য বর্ষাকালে যাবার কারনে আমরা নীলের পরিবর্তে ঘোলা পানি দেখতে পেয়েছিলাম! বেশ কয়েকটি উচু টিলা আছে এখানে। সবগুলো টিলাতেই সাধারণ মাটির পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের মাটির অস্তিত্ব, যেমন লাল,হলুদ,সাদা,গোলাপী,কালো,খয়েরী ইত্যাদি। চীনামাটির পাহাড় দেখতে যাবার পথেই দেখতে পাবেন টঙ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া হাজং মাতা রাশমনির স্মৃতিসৌধ।

20181102_011532.jpg
চীনামাটির পাহাড় দেখতে গিয়ে ছবি তুলতে হয়!                 ©ছবি:লেখক

বিজয়পুর সীমান্তের দিকে একটু গেলেই দেখতে পাবেন উচু পাহাড়। এখানে একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে,তবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারনে বিজিবি এটা বন্ধ করে দিয়েছে। এটা নাকি কমলারও বাগান,তবে আমরা এসব দেখতে পাইনি! আসলে ওটা কমলার সিজন ছিল না। আরো একটু সামনে গেলেই বিজয়পুর সীমান্ত এলাকা। অনেক সময় বিজিবি তাদের চেকপোস্ট পার হবার অনুমতি দেয় না। কারন ভারতের সীমান্তরক্ষীরা নাকি অনেক সময় বাংলাদেশীদের শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। ক্যাম্পে নেমে অনুমতি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করুন। কোন মতেই অনুমতি ছাড়া বিজিবি ক্যাম্প চেকপোস্ট অতিক্রম করবেন না, কারন কোন বিপদে পড়লে বিজিবিকেই লাগবে।

20181102_011646
বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প থেকে সোমেশ্বরী নদী ও ভারতীয় পাহাড়           ©ছবি:লেখক

আমাদের মটর সাইকেল চালক অনুমতি না নিয়ে চেকপোস্ট ক্রস করেছিল, ফলে আমাদের আর সীমান্তে যাবার অনুমতি দেয়া হয়নি! বিজিবি অবশ্য তাদের ক্যাম্পের সীমান্তমুখী বাগান খুলে দিয়েছিল আমাদের জন্য,আর বলল আমাদের এখান থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করেন তবুও সীমান্তে যেতে দেব না! ক্যাম্পের বাধানো ঘাট থেকে অবশ্য ভারত স্পষ্ট দেখা যায়। মাঝখানে শুধু সোমেশ্বরী নদী,ওপাশে ভারতের কাটাতারের বেড়া। বাংলাদেশ অংশে কোন বেড়া নেই। এখানকার ভিউটা দারুন লাগে।

বিজিবি যদি অনুমতি দেয় তবে বাড়তি কিছু দেখতে পারবেন এটা নিশ্চিত। তবে কোনমতেই সীমান্তের নির্দিষ্ট এলাকা অতিক্রম করবেন না। ঘুরতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনবেন না।

আগেই বলেছি সোমেশ্বরী অপরুপ নদী। শীত কালে যখন পানি কম থাকে তখন সোমেশ্বরী নদীতে হাটু পানিতে নেমে হাটা হাটি করবেন,তখন ফিলিংসটা দুর্দান্ত হবে।

20181102_153903.jpg
রানীখং খ্রীষ্টান ধর্ম পল্লী          ©ছবি:নাজমুল ইসলাম

বিজয়পুর থেকে ফেরার পথে যাবেন রানিখং এর সাধু যোসেফের খ্রিষ্টান পল্লীতে। এখানে ছাত্রী হোস্টেল, প্রাইমারী-হাইস্কুল,চার্জ সবই আছে। পাহাড়ের উপরে এর অবস্থান। ঘুরে দেখলে ভালো লাগবে। এখানকার আদিবাসী ছাত্র/ছাত্রীদের ভাষা আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি!

20181102_153710.jpgসোমেশ্বরী নদী থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে         ©ছবি:নাজমুল ইসলাম

এখন ফেরার পালা। সময় বুঝে আপনার সুবিধা মোতাবেক বাসস্ট্যান্ডে চলে আসুন এবং টিকিট কেটে গাড়িতে চড়ে পড়ুন।

দুর্গাপুর থেকে ঢাকাঃ

ঢাকায় ফেরার জন্য দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র তালুকদার প্লাজার সামনে থেকে রাত এগারটায় এবং সাড়ে এগারটায় দুটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আপনি এখান থেকে টিকিট সংগ্রহ করে বাসে যেতে পারেন। ভোর পাঁচটার মধ্যেই মহাখালী পৌঁছে যাবেন। দুর্গাপুর থেকে ঢাকা ফেরত যাওয়ার সময় ট্রেনে যাওয়ার চিন্তা কখনই করবেননা। ময়মনসিংহ থেকে আপনি কখনো ঢাকার আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট পাবেননা। প্রতিদিন সকাল ৬:২০ মিনিটে সুসং দুর্গাপুরের একবারে প্রানকেন্দ্র উকিলপাড়া মোড় এর তালুকদার প্লাজা/ অগ্রণী ব্যাংক এর সামনে থেকে বিআরটিসি বাস ছাড়ে (নিশ্চিত জানা নেই)।

দুর্গাপুর থেকে বগুড়াঃ

দূর্গাপুর থেকে বগুড়া আসার সরাসরি কোন বাস সার্ভিস নাই। দূর্গাপুর থেকে যেকোন গাড়িতে চলে আসুন নেত্রকোনার ঢাকামূখী বাসস্ট্যান্ডে। এখান থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে উঠে পড়ুন। নামিয়ে দেবে ওই শম্ভুগঞ্জ ব্রীজে। নেমেই হাতের বাম পাশে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পাবেন। সেখান থেকেই চড়ে পড়ুন বগুড়াগামী বাসে। তবে মনে রাখবেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর বগুড়ার উদ্দ্যেশ্যে ময়মনসিংহ থেকে কোন বাস ছাড়ে না। অতএব সেভাবেই আপনার ভ্রমন পরিকল্পনা করুন।

মনে রাখবেনঃ
প্রত্যেকটা পর্যটন এলাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ। অতএব এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। পরিবেশ পরিস্কার রাখুন। বেড়াতে গিয়ে সব কিছু চাহিদামতো রাজকীয় পাবেন এ চিন্তা এড়িয়ে চলুন! প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা নিন,স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগীতা নিন।
ভ্রমন করুন, দেশকে জানুন।
আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।

*আমাদের ভ্রমনের সময়ের আলোকে লেখা। অতএব সময়ের সাথে সব ধরনের ভাড়া, গাড়ির সময় ইত্যাদি পরিবর্তন হতে পারে।
*কোন মতামত বা সংশোধনী কিংবা জিঙ্গাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।

©কপিরাইট: আলমগীর হোসেন
TM:JUNE 2018
TD:23-24 (2 nightS 2 days)